আবদুল নবী, সিবিএন
ঈদের তৃতীয় দিন ও টানা সরকারি ছুটির শেষ দিনে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত যেন হয়ে উঠেছে এক প্রাণচঞ্চল জনসমুদ্র। দেশের নানা প্রান্ত থেকে ছুটে আসা পর্যটকদের ভিড়ে পর্যটন নগরী পেয়েছে উৎসবের নতুন রূপ।
সকাল থেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে সৈকতের লাবণী, সুগন্ধা ও কলাতলী পয়েন্টে ভিড় করেন ভ্রমণপিপাসুরা। কেউ নেমেছেন সমুদ্রস্নানে, কেউ ব্যস্ত স্মৃতিবন্দী করতে, আবার কেউ প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটানোর আনন্দে ডুবে আছেন।
তবে এই উৎসবমুখর পরিবেশের মাঝেই অনেক পর্যটকের কণ্ঠে শোনা গেছে অসন্তোষ। তাঁদের অভিযোগ, ঈদকে ঘিরে হোটেল ভাড়া ও খাবারের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি ব্যয় করতে হচ্ছে। এমনকি সৈকতে বিনোদনের খরচও বেড়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
সপরিবারে ঘুরতে আসা সানজিদা খানম রেখা জানান, দাম কিছুটা বেশি হলেও পরিবেশ ও নিরাপত্তা সন্তোষজনক। অন্যদিকে কুমিল্লার শেখলা জান্নাত জানান, পরিবার নিয়ে ভালো সময় কাটছে, তবে বিনোদনের আরও সুযোগ থাকলে অভিজ্ঞতা আরও সমৃদ্ধ হতো।

অভিযোগের বিষয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, পর্যটকের চাপ বাড়ার কারণে চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কিছুটা মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে। তবে অতিরিক্ত দাম নেওয়ার অভিযোগ তাঁরা অস্বীকার করেন।
এদিকে বিপুলসংখ্যক পর্যটকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে দায়িত্বশীলদের। সি-সেইফ লাইফগার্ড সদস্য জয়নাল আবেদনী ভুট্টো বলেন, লাখের বেশি পর্যটক সমাগম হয়েছে, সীমিত জনবল নিয়েও আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক আছি।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পর্যটন খাতে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শাহিদুল আলম বলেন, হোটেল ও রেস্তোরাঁ মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কাজ চলছে।

আনন্দ আর অভিযোগের এই মিশ্র বাস্তবতায় ঈদের ছুটির শেষ দিনেও কক্সবাজারে ভিড় কমেনি। বরং সাগরের ঢেউয়ের মতোই মানুষের উচ্ছ্বাস আর প্রত্যাশা দু’টিই ছিল সমানতালে।
